শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানের লামা উপজেলার চোখ জুড়ানো পাহাড় ও মেঘের রাজ্য 'মিরিঞ্জা ভ্যালি' রেঞ্জে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ি ভ্যালিতে ভোরের শুভ্র মেঘের মিতালী, রোমাঞ্চকর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। পর্যটকদের মতে, ভোরবেলায় মিরিঞ্জা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সাজেক ভ্যালির মতো মেঘের ওপর ভেসে বেড়ানোর অপূর্ব অনুভূতি পাওয়া যায়। ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থান এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বেশ কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকরা এখন মিরিঞ্জাকে নতুন জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এতে একই ভ্রমণে পাহাড়ের শান্ত-স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং সমুদ্র সৈকতের রূপ উপভোগের দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের এই বাড়তি চাপ সামলাতে লামার মিরিঞ্জা ও সুখিয়া পাহাড় এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ জমজমাট হয়ে উঠেছে। মারাইংছা হিল রিসোর্ট, মিরিঞ্জা ভ্যালী রিসোর্ট, ডেঞ্জার হিল, মেঘ কুঞ্জ, ডিজুড়ি, বেইজ ক্যাম্প, ইকো রিসোর্ট, মেঘ মাচাং রিসোর্ট, চুংদারবক রিসোর্ট, সানসেট রিসোর্ট, আগারণ, মিরিঞ্জা হ্যাভেন রিসোর্ট, রয়েল রিসোর্ট, লাতং, পাইংতং রিসোর্ট, অরণ্য রিসোর্ট, রিঃছাংতং রিসোর্ট ও অনন্যা রিসোর্ট ছাড়াও স্থানীয় পাহাড়ি কাঠের কটেজ ও জুমঘরগুলোতে শতভাগ আগাম বুকিং নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরিবার ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ার সাথে সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এসেছে। লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদেকুর মওলা ধ্রুব জানান, "পূজার ছুটির প্রথম দুই দিনেই অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটক মিরিঞ্জা ও সুখিয়া পাহাড় পরিদর্শনে এসেছেন। পাহাড়ের উঁচুতে পর্যটকদের অবস্থান, বিনোদন ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রিসোর্ট মালিক সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ও নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে।"
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি পথে চলাচলের অন্যতম প্রধান বাহন “চাঁদের গাড়ি” শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং এটি পাহাড়ি জনপদের জীবনসংগ্রাম, উদ্ভাবনশীলতা এবং সংস্কৃতির প্রতীক। খাড়া, পিচ্ছিল ও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় যেখানে আধুনিক যানবাহন প্রায় অচল, সেখানে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িগুলোই হয়ে উঠেছে মানুষের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। বিশেষ করে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় এটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চাঁদের গাড়ির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে...
ঈদের টানা ছুটিকে ঘিরে জেলায় পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু এখানে ছুটে এসেছেন। সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি আর ঝর্ণার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পর্যটকেরা জেলার প্রায় সব দর্শনীয় স্থানগুলোকে উৎসবমুখর করে তুলেছেন। বিশেষ করে , , এবং এলাকায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আলুটিলা গুহার ভেতরে প্রবেশের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে, আর ঝর্ণার ঠাণ্ডা পানি ও ঝুলন্ত সেতুর দোলনায় তারা বাড়ত...
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতায় নির্মিত হয়েছে দেশের অন্যতম উচ্চস্থানে অবস্থিত মসজিদ— দারুস সালাম জামে মসজিদ। সবুজ পাহাড় আর মেঘের নিত্য লুকোচুরির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই নান্দনিক মসজিদটি ইতোমধ্যে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দানকৃত এক একর জমির ওপর নির্মিত চারতলা ভিতের এই মসজিদের উচ্চতা ২২ ফুট। এতে রয়েছে চারটি গম্বুজ ও একটি সুউচ্চ মিনার। মসজিদটির পূর্ব-পশ্চিমে দৈর্ঘ্য ৬৫ ফুট, উত্তর-...
স্টাফ রিপোর্টার | বান্দরবান জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র এবং শৈলপ্রপাত ঘিরে এখন প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়। হোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানান, নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছিলেন। নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় আবারও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছেন পর্যটকরা। সপ্তাহান্তে অধিকাংশ আবাসিক...
বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে লুকিয়ে থাকা এক অনন্য প্রাকৃতিক নিদর্শনের নাম থিন্দু বড় পাথর। পাহাড়, ঝিরি আর বিশালাকৃতির পাথরের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিনে দিনে হয়ে উঠছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। চারপাশে সবুজ পাহাড়, পাথরের গায়ে ঝিরির স্বচ্ছ পানির অবিরাম ছোঁয়া—থিন্দু বড় পাথর যেন প্রকৃতির নিজস্ব শিল্পকর্ম। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাহাড়ি জীবনের স্মৃতি, গল্প আর বিশ্বাসের অংশ। বর্ষায় ঝিরির পানিতে পাথরের বুক...